পৃষ্ঠাসমূহ

সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

মুগ্ধ ও হারিয়ে যাওয়া সাইকেল

#১#
জনাকীর্ণ  এক পথের দিকে সে তাকিয়ে ছিল ছিন্ন পাতার মতো; যেন কেউ এসে মাড়িয়ে দিয়ে যাবে, যেন বাতাসের সাথে সঙ্গী হয়ে উড়ে যাবে, যেন তার কেউ নেই, কেউ নেই।

মানুষ চলে  গেলে, হারিয়ে গেলে, দূরে সরে  যাওয়ার খারাপ লাগা বোধটা  যে সাময়িক তা কিছুদিন পরেই ইবু বুঝে ফেলে, সেই বুঝে ফেলাটা আবার তার মন খারাপ  করে দেয়; বেঁচে থাকা, বেঁচে  থেকে জীবনধারণ করে, সম্পর্ক  তৈরী করে হারিয়ে ফেলার  ভেতর কোনো চমক নেই বরং  তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা  পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম, এ থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই- ব্যাপারটি তাকে আরো বিষণ্ণ করে দেয়।
বাবা-মা’র  একমাত্র সন্তান, তাই বেড়ে ওঠা নিঃসঙ্গতায়। বাইরের পৃথিবী থেকে ঘরের দরজা বন্ধ কিন্তু জানালা খোলা পরিবেশ তার ভীষণ পছন্দের। তবে তার স্বপ্ন ছিল কিংবা আছে। সেই স্বপ্ন সে একা একা দেখতে, ভাবতে ভালবাসত। বন্ধু বলতে যাদের বোঝায় তেমন কাউকে ইবুর জীবনে দেখা যায়না। এ নিয়ে বাবা-মা’র দুঃশ্চিন্তার অন্ত নেই।

সেই সময়, সেই একজন

১৩৬৩ বাংলা সনের ১৩ই পৌষের গল্প বলি।আমার বাবা সেদিন আমাকে এক আনার চিনির গুড়া কিনে দিয়েছিলেন।এখনকার সময়ে আপনারা এই সুস্বাদু খাবারটাকে বাতাসা বলে থাকেন বলে বোধ করি।আমি সেই চিনিগুড়া সারাদিন হাতে ধরে থাকি।মা জিজ্ঞেস করতেন, “বাজান খাস না কেন?”
আমি বলি, “খামুনা”।
মা মাথায় বাড়ি দিয়ে বলে, “পাগল ছেলে।তোরে তো পিপড়ায় ধরবো”।
আমি ফিক করে হেসে বলি, “পিপড়া খায়া ফালামু”।
মা আমাকে আদর করে কোলে বসায় ভাত রাধে।আমার বয়স তখন ৬ বছর।বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আমি।আমরা প্রায়ই একটা প্রবাদ ব্যবহার করি, দুধে ভাতে মানুষ করা।আমার বাবা মা আমাকে দুধে ভাতে মানুষ করেছেন।আমার একটা দিনও মনে পড়েনা যেদিন বাবা আমাকে গভীর রাতে কোলে নিয়ে ঠাকুরমার ঝুলির ভয়ংকর সব মজার গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াননি।আর মা তো আমাকে কোথাও বের হওয়ার আগেই বিশাল বড় একটা কাজল মাথায় একে দেবেন অবশ্যই।কার দৃষ্টি থেকে বাচাতে চাইতেন আজও বুঝিনা।

"টুকুনের মা"

রাত দুটা বেজে আটচল্লিশ।খাবার টেবিলে গরম ধোয়া ওঠা ভাত, টমেটো দিয়ে পাবদা মাছ আর বেগুণ ভাজি।
টুকুন খুব আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে।৩দিন পর বাসায় ফিরল ও। কি খেয়েছে এই ৩ দিনে, আদৌ খেয়েছে কিনা কে জানে।
আমার রান্না ছাড়া কারো রান্নাই খেতে পারেনা ছেলেটা।বাবা মাঝে মাঝে রসিকতা করে আমাকে বলেন,"তোর বিয়ে
হলে টুকুনকে যৌতুক হিসেবে শ্বশুর বাড়ী পাঠিয়ে দিতে হবে। না হলে না খেয়ে মারা যাবে তোর আদরের ভাই।"
মা যখন আমাদের দুই ভাইবোনকে আমার খামখেয়ালি বাবার হাতে ফেলে নিশ্চিন্ত মনে ওপারে যাত্রা করেছিলেন,
আমার বয়স তখন এগারো,আর টুকুনের মাত্র তিন।আমার বাবা ছেলেমেয়ে মানুষ করা সহ সংসারধর্মে অসীম
পারদর্শী ছিলেন।তাইতো আমার স্কুল ইয়ুনিফরম আয়রন করতে গিয়ে কখনো পুড়ে ফেলতেন,আবার কখনো
টুকুনকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে ওর বাঁদরামির কাছে হার মেনে পুরো ঘরকে পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলতেন।

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১২

হাজার বছর ধরে-ফেসবুক ভার্সন


মকবুল is now married to ফাতেমা
ফাতেমা,গনু মোল্লা like this
আমেনার কমেন্ট-“কি আমরা কি ভাইসা আইছি!!শুধু ফাতেমা কেন?আমাদের নাম কই?আমাগো রে তুমি বিয়া করো নাই?”
টুনি like this
টুনির কমেন্ট-“ঠিক কইছ বুবু;আমাদের কোন সম্মান নাই; শুধু ফাতেমাকে দিয়ে রাখছে”
মকবুলের কমেন্ট-“তোমরা শান্ত হউ;ফেসবুকে relationship status এর multiple option না থাকলে আমি কি করবো?তাই আমি ঠিক করছি;মাসের ৩০ দিনের ১০ দিন করে ৩ জনের নাম একে একে দেয়া হবে”

আজ তবে পৃথিবী আঁধার করে বৃষ্টি হোক...


চোখ মেলেই অন্ধকার ঘরে কথা বলি ওর সাথে -

- ওই ... কি করিস?
- ঘুমাই ... তুই?
- ঘাস খাই ...
- গুড ... ঘাস খাওয়া ভাল ...
- আমি তোর মত ঘাস খাই না কি?
- তুই নিজেই তো বললি ...- তরে আমি ...- কি?- ভাগ ...
বিছানা ছেড়ে উঠি, এস-ট্রে টেনে নিয়ে খালি পেটে ধরাই দিনের প্রথম সিগারেট। কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে পৃথিবী। মুখে পানির ঝাপটা দিতেই কেঁপে উঠি, এত গরম পানি, অথচ হাতে তেমনটা লাগছে না। সকাল বেলার কফিটা সাধারণত ভাল হয়না, তবুও এক মগ কফি না খেয়ে বাইরে বের হলে শীতে জমে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। কফির পানি বসিয়ে দিয়ে টোস্টারে পাউরুটি দেই দু'পিস। পাগলীটা উদয় হয় আবারও।

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

~খুনি বাড়ি~


~খুনি বাড়ি~

ভূত বা ভৌতিক বিষয় কোনটিতেই আমার বিশ্বাস নেই। নিজের সাহসের উপর যথেষ্ট আস্থা আছে বলেই অপরিচিত এলাকার এই ভৌতিক পরিবেশে থাকতে রাজি হয়েছি। যে বাড়িটাতে আমি আছি সেটাকে ঘিরে বেশ মুখরোচক গল্প প্রচালিত আছে। এসব গল্প শুনতে বেশ মজাই লাগে। আমার কলিগরা আমার কাছ থেকে ঐ বাড়ি সম্পর্কে নতুন কোন গল্প শোনার জন্য মাঝে মাঝে আগ্রহ দেখাতো। তাদের ধারণা আমি লজ্জায় এ বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছি না।